
মো সাইদ হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া হাত বাঁধা ও গলায় গামছা প্যাঁচানো যুবকের লাশের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।শনিবার সন্ধ্যায় নগরের বড়কুঠি সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৩ বছর। তার পরনে ছিল নেভি ব্লু রঙের জিন্সের প্যান্ট ও টিয়া রঙের টি-শার্ট। গামছার একটি অংশ গলায় প্যাঁচানো ছিল এবং অপর অংশ দিয়ে দুই হাত বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হলেও তাকে ওই এলাকায় হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কোথাও থেকে মরদেহ ভেসে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তিনি আরও জানান, যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটি নৌ পুলিশের অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নৌ পুলিশ পরিচালনা করবে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় কোনো মামলা হয়নি।রাজশাহী মহানগর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বিকাশ মণ্ডল বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। তবে কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় মরদেহে পচন ধরেছে। ফলে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি এবং তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে কোনো মিলও মেলেনি।তিনি জানান, নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সেখান থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিচয় উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহের দাফন এবং মামলা দায়েরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
