
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় মৎস্যজীবী গ্রাম সমিতিগুলোকে সারা দেশের মধ্যে ‘মডেল’ হিসেবে রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মৎস্যজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল ২৩ মে শনিবার উপজেলা ফিশার্স ফেডারেশনের ত্রৈমাসিক সাধারণ সভায় বক্তারা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ফিশার্স ফেডারেশনের সভাপতি কমলা বিশ্বাস। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী পলাশ কুমার সেন।সভায় বক্তারা গ্রুপ সদস্যদের সম্মানী, ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম গতিশীল করা, সদস্যদের প্রশিক্ষণ, লভ্যাংশ বণ্টন, নিরাপত্তা সঞ্চয় এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নসহ সমিতির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।ফেডারেশনের সদস্য মানিকলাল বিশ্বাস, সুকুমার বাবু, কাকলি বিশ্বাস, ও সভাপতি কমলা বিশ্বাস জানান, সমিতির সদস্যরা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ, জাল বুনন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, গরু পালন, মাছ ও শুঁটকির ব্যবসা করে পরিবারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। তারা সভায় শপথ নেন যে, নিয়মিত সভা, সঠিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার রোধের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার সমিতিগুলোকে তারা একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সদস্যদের আস্থা অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য। মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সার্বিক সহযোগীতায় এই উদ্যোগ মৎস্যজীবীদের ভাগ্যবদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।ক্ষেত্র সহকারী পলাশ কুমার সেন বলেন, ‘আমরা মৎস্যজীবীদের কার্যক্রম তদারকী করছি। ঋণের বকেয়া টাকা উত্তোলনে সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি আমরাও ফিল্ড ভিজিট করছি। তারা কোন বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে এবং আমরাও তাদের যথাসাধ্য পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সমিতির কার্যক্রমগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এসডিএফ এই মৎস্যজীবী গ্রাম সমিতিগুলোকে একটা শক্ত ভিত্তির উপর দাড় করিয়েছে। তাদের কার্যক্রম হস্তান্তরের পর থেকে উপজেলা মৎস্য দপ্তর এই ১০টি মৎস্যজীবী গ্রাম সমিতির সার্বিক দেখাশুনা করছে। মৎস্যজীবীরা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে যে স্বাবলম্বিতা অর্জন করে চলেছে তা প্রশংসনীয়। আজ ত্রৈমাসিক মিটিংয়ে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিয়মিত মাসিক ও ত্রৈমাসিক সভা করা, ঋণের সুফলভোগী সঠিকভাবে নির্বাচন, নিরাপত্তা সঞ্চয়, লভ্যাংশ বন্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সদস্যদের ভিতরে স্বচ্ছতা-আস্থা অর্জন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আমি আশা করি, আমাদের অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সমিতিগুলো দেশের মৎস্য খাতের জন্য অনুসরণীয় মডেলে পরিণত হবে।’
